করোনাভাইরাস শনাক্তের টেস্টের জন্য দেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত এক দিনে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে; যেখানে গতকাল (মঙ্গলবার) ২৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া ১ হাজার ৮৬৫ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; যেখানে গতকাল ছিলো ১ হাজার ৭১৯ জন।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দৈনিক শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা গত তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে গতবছরের ১৫ ডিসেম্বর এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন মোট ১ হাজার ৮৭৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আরও এক হাজার ৮৬৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৫২ জন হয়েছে।
আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ১১ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু বেড়ে ৮ হাজার ৬০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক হাজার ৫১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৮৯ জন হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি ২১৯টি ল্যাবে ২৪ হাজার ২৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ২৬৯টি নমুনা।
এ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৮৫৭টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪১২টি।
শনাক্তের হার গত দুদিন ধরে কিছুটা কমছে। আগের দুই দিন শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ এবং ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশের পর গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ আর নারী ৩ জন। তাদের প্রত্যেকেই হাসপাতালে মারা গেছেন।
২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে ৮ জনেরই বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।